বাংলাদেশী আর ভারতীয়রা মিলে ফেসবুক আর টুইটারকে ভাঁগাড় বানিয়ে ফেলেছে
বাংলাদেশী আর ভারতীয়রা
হলো দুনিয়ার সবচেয়ে নোংরা ও কদর্য জাতি। এদের মাঝে সৌন্দর্যবোধ বলতে কিছুই নেই। কারণ
এদের বড় একটা অংশই মূর্খ ও সার্টিফিকেটধারী অশিক্ষিত। প্রকৃত জ্ঞানী ও সৌন্দর্যবোধের
অধিকারী মানুষ এদের মাঝে খুব কমই আছে। মূলত মূর্খদের সংখ্যাধিক্য থাকাতে উভয় জাতির
মাঝেই কদর্যতা বেশি। এই কদর্যতা সমাজ ও পরিবেশকে কলুষিত করার পাশাপাশি এখন স্যোশাল
মিডিয়া সহ পুরো অনলাইন জগতকেই গ্রাস করেছে।
আমার অনলাইন জগতে আগমন
ফেসবুক দিয়ে ২০১২ সালে। সে সময় ফেসবুক চালানোর একমাত্র মাধ্যম ছিলো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।
ইন্টারনেট ও তেমন সহজলভ্য ছিলো না। ব্রডব্যান্ড কানেকশন শুধু অফিসগুলোতে থাকতো, তাও
সীমিত। ব্যাক্তিগত ভাবে মানুষ শুধু মাত্র মডেম দিয়ে নেট চালাতো। সে সময়ে মূলত ফেসবুকে
মোটামুটি রুচিশীল মানুষেরাই থাকতো। তবে যখনই এন্ড্রয়েড ফোন সহজলভ্য হয়ে যায় ও ফোনে
ইন্টারনেট চালানোর শুরু হয়, ঠিক তখনই থেকেই সমস্যার শুরু হয়। এক দিকে যেমন মার্জিত
ও রুচিশীল মানুষেরা ইন্টারনেট চালানোর সুযোগ পায়, অন্যদিকে কদর্য মন-মানসিকতার রুচিহীন
মানুষ দ্বারা ফেসবুক ভরে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফিল্ড লেভেলের নেতাকর্মীরা
বাংলাদেশের ফেসবুকের পরিবেশটাকে ভয়ানক জঘন্য করে দেয়। এখন ফেসবুক জুড়ে শুধু দেখবেন
রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা, গালাগালি, হিংসা-বিদ্বেষ, উষ্কানি। ফেসবুকে ঢুকলেই আপনার মন
অশান্তিতে ভরে উঠবে। বাংলাদেশীরা টুইটারে ঢুকেও একই অবস্থা করেছে। টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর
হালও ভয়াবহ।
একাধিক মত ও পথের মানুষ
থাকতেই পারে এক যায়গায়। প্রত্যেকের একটা আর্গুমেন্ট এর যায়গা থাকতেই পারে। তবে প্রোপাগান্ডা,
গালিগালাজ, হিংসা-বিদ্বেষ ও সহিংসতার উষ্কানি কোনো ভাবেই কাম্য নয়।
একই জিনিশ আমরা দেখতে পাই
ভারতের ক্ষেত্রেও। ভারতে যখন ইন্টারনেট তেমন সহজলভ্য ছিলো না, সে সময় শুধু মাত্র ভারতের
শহুরে শিক্ষিত সমাজই ইন্টারনেট চালাতো। তখন ইন্টারনেট খুবই সুন্দর ও গঠনমূলক ছিলো।
কিন্তু ২০১৩ সালে ভারতের শাসন ক্ষমতায় বিজেপি আসার পর ভারতের গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত,
মূর্খ, বর্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ইন্টারনেট এক্সেস দেয়। ফলাফল যা হবার ছিলো, তাই
হলো। মিথ্যা সংবাদ, উগ্রতা, সহিংসতার উষ্কানী ও গালাগালিতে ভারতীয়রা সারা পৃথিবীতে
চ্যাম্পিয়ন হ্যেছে।
এসব কারণে প্রায় এক বছর
আগেই নিজের ফেসবুক আইডি, ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট, টুইটার একাউন্ট, টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে
শুরু করে সব ডিলিট করে দিয়েছি। তবে একটা ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডি আছে, যেখানে জরুরী
কাজে যোগাযোগের খাতিরে যেতে হয়। তখন নিউজফিডের ভয়াবহ অবস্থা দেখে সত্যিই অনেক মর্মাহত
হই।
এই জন্য ফেসবুকে আর কিছু
লিখি না। কারণ মন্তব্যে হিংস্রতা বাদে কোনো যৌক্তিক কথা যে পাবো না তা জানি। এই জন্য
ওয়েবসাইটেই নিজের মনের সব কথা প্রকাশ করি।