আক্কেল থাকলে আর জীবনে কাউকে বই ধার দিবো না বা গিফট করবো না
পৃথিবীতে মানুষের বাইরে কোনো বস্তুকে যদি আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে থাকি তবে তা
হলো বই। আমি ভয়ানক ভাবে বই ভালোবাসি। জামা কাপড় বা অন্য কোনো জিনিশে আমার আগ্রহ নেই।
আমার প্রধাণ আকর্ষণ হলো বইয়ে। অল্প অল্প করে কষ্ট করে টাকা জমিয়ে আমি একেকটা বই কিনি।
প্রতিটা বইয়ের প্রতিই আমার স্নেহ-মায়া-মমতা থাকে। আমি পরম মমতায় প্রতিটা বইয়ের উপর
হাত বুলাই। যত্ন নিয়ে তাদের মুছি, পরিষ্কার রাখি। একেকটা বই আমার সন্তানের চেয়ে কোনো
অংশে কম নয়। আমি আমার সন্তানের মতোই এদের আগলে রাখি।
কাউকে যখন আমি আমার এই পরম স্নেহের বইগুলো পড়তে দেই, বা গিফট করি- তার বোঝা উচিৎ
কতোটা মায়া ও ভালোবাসা নিয়ে আমি সেটা করেছি। তারও উচিৎ আমি যেভাবে নিজ সন্তানের মতো
বইগুলোকে আগলে রেখেছি, সেভাবেই বইগুলোকে আগলে রাখা। কিন্তু আধিকাংশ মানুষই তা করে নি।
আজ আমার দেয়া একটি অত্যন্ত প্রিয়ো বই ফেরত পেলাম। অনেক যত্ন করে বইটাকে রেখেছিলাম
আমি। একটা পাতাও যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে আমার সজাগ দৃষ্টি ছিলো। তবে যে বইটি পরেছে,
সে বইটির যা হাল করেছে, দেখে আমার কান্না চলে এসেছিলো। মলাটটা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে
ফেলেছে। আর বইটার উপর ধুলোর আস্তরণ। ধুলো না হয় আমি মিছে নিতাম, তবে মলাটটা এমন ভাবে
ছিড়েছে, দেখে বুকটা ফেটে গেলো।
আসলে সত্যিই মূর্খরা জ্ঞানের কদর করতে পারে না। তাই তো জ্ঞানের বাহক বইয়ের সাথে
এই নির্মম আচরণ। আসলে রাসুল (সাঃ) সত্য বলেছেন। কেয়ামতের পূর্বে ইলম তুলে নেয়া হবে।
তখন আর জ্ঞানীদের কদর থাকবে না। বাস্তবেই এসব নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি।
জ্ঞান হলো আল্লাহর নুর। আল্লাহ এই অসভ্যগুলোকে তার নুর থেকে কেনো বঞ্চিত করলেন
সেটা বুঝতে পারছি।
চারদিকটা মূর্খতে ভরে গেছে। এসব মূর্খদের আবার সার্টিফিকেটও আছে। মানে এরা সার্টিফিকেটধারী অশিক্ষিত। তাই তো জ্ঞানের প্রতি ও বইয়ের প্রতি এতো বিদ্বেষ। আজ একটা ওয়াদা নিজের সাথে নিজে করেই নিলাম। আক্কেল থাকলে কাউকে আর বই গিফট করবো না। পড়তেও দিবো না। বাঙ্গুরা অশিক্ষিত-মূর্খ-বর্বর আছে, সেটাই থাক। এরা জানোয়ারের চেয়েও অধম।